স্বল্প জায়গায় অধিক মাছ চাষ করে দিগুন আয়

স্বল্প জায়গায় অধিক মাছ চাষ করে দিগুন আয়

মাছ চাষ এবং মাছের উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে আমাদের দেশের কৃষকেরা বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার মধ্যে অন্যতম হল জায়গা সংকট। এই সমস্যার অন্যতম সমাধান হচ্ছে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে খুব অল্প জায়গায় অধিক মাছ চাষ করা সম্ভব। সল্প জায়গায় এবং সল্প খরচে অধিক আয় করা সম্ভব তাই খুব শিগ্রই এটি বিভিন্ন দেশে শিগ্রই জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

 

মাছ চাষের সরঞ্জাম

১. ত্রিপল ট্যাংক/সিমেন্ট ট্যাংক

২. এয়ার পাম্প (Air Pump)

৩. টেমপ্যারেচার মিটার (Temperature Meter)

৪. ইমহফ কোন

৫. প্রোবায়োটিক (Probiotic)

৬. এয়ার পাইপ (Air Pipe)

৭. ডি ও টেস্ট কিট (DO Test Kit)

৮. এ্যামোনিয়া টেস্ট কিট (Ammonia Test Kit)

৯. ডিজিটাল ওজন মাপনী (Digital Weight Scale) 

১০. TDS মিটার (TDS Meter)

১১. Ph মিটার (PH Meter)

১২. এয়ার লাইন সুইচ (Air Line Switch)

১৩. টি কনভার্ট (T Convert)

১৪. ন্যানো টিউব (Nano Tube)

১৫. বাবল স্টোন (Air Bubble Stone)

 

মাছ চাষের পদ্ধতি

আপনার চাহিদা মত ত্রিপল অথবা সিমেন্টের একটি ট্যাংক বানিয়ে নিবেন। তারপর ট্যাংকটিকে জীবাণুমুক্ত করতে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর স্বচ্ছ এবং বিভিন্ন গুনাগুন সম্পন্ন পানি ট্যাংকে প্রবেশ করাতে হবে। পানিতে আয়রনের মাত্রা সর্বচ্চ ০.২ppm হাতে পারবে, এর চেয়ে বেশি হলে আয়রন দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর ৫০ppm হারে ফিটকিরি প্রয়োগ করে ১২ ঘণ্টা অনবরত পানিতে বাতাস সরবরহ করতে হবে। ২৪ ঘণ্টা পর ১০০ppm হারে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট(CaCO3-চুন) প্রয়োগ করে বাতাস সরবরহ নিয়মিত করতে হবে। ট্যাংকের ১২ ভাগ পানির ১ ভাগ পানিতে ১০০০ ppm হারে লবণ(আয়োডিন ছাড়া) প্রয়োগ করতে হবে। লবণ প্রয়োগের পরপরই TDS পরীক্ষা করেতে হবে। বায়োফ্লকের জন্য ১৪০০ – ১৮০০ ppm, TDS থাকা প্রয়োজন। সব ঠিক থাকলে তখনই মাছ প্রবেশ করানো যাবে। এরপর প্রথমে ৫ ppm প্রেবায়োটিক, ৫০ ppm চিটাগুড়, ৫ ppm ইস্ট, প্রতি টনের জন্য ১ লিটার পানি, একটি বালতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করারপর ৮- ১০ ঘন্টা কালচার করে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় দিন থেকে ১ppm প্রোবায়োটিক, ৫ ppm চিটাগুড়, ১ ppm ইস্ট, প্রতি টনের জন্য ১ লিটার পানি দিয়ে কালচার করে প্রতিদিন একবার প্রয়োগ করতে হবে। পানির যে গুনাগুন থাকতে হবে তা নিচে দেয়া হলঃ

» তাপমাত্রা ২৫ – ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে হবে

» পানির রং – হালকা সবুজ, সবুজ, বাদামী হলেও চলবে

» প্রতি লিটারে ৭- ৮ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমান থাকতে হবে

» পিএইচ ৭.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে হতে হবে

» ক্ষারত্ব প্রতি লিটারে ৫০ – ১২০ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» খরতা প্রতি লিটারে ৬০ – ১৫০ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» ক্যালসিয়াম প্রতি লিটারে ৪ – ১৬০ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» অ্যামোনিয়া প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» নাইট্রাইট প্রতি লিটারে ০.১ – ০.২ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» নাইট্রেট প্রতি লিটারে ০ – ৩ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» ফসফরাস প্রতি লিটারে ০.১ – ৩ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S) প্রতি লিটারে০.০১ মিলিগ্রাম থাকতে হবে

» আয়রন প্রতি লিটারে০.১ – ০.২ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» পানির স্বচ্ছতা ২৫ – ৩৫ সে.মি.এর মধ্যে থাকতে হবে

» পানির গভীরতা – ৩ থেকে ৪ ফুটের মধ্যে থাকতে হবে

» ফলকের ঘনত্ব – ৩০০ গ্রাম / টনের মধ্যে থাকতে হবে

» TDS প্রতি লিটারে ১৪০০০ – ১৮০০০ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে

» লবণাক্ততা – ৩ – ৫ ppt এর মধ্যে থাকতে হবে

 

মাছ চাষে পর্যবেক্ষণ

» খেয়াল রাখতে হবে পানির রং সবুজ বা বাদামী ছাড়া অন্য কোন রং দেখায় কিনা

» পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ কণা লক্ষ্য করা যাবে

» সম্ভব হলে প্রতিদিনই পানির অ্যামোনিয়া পরীক্ষা করতে হবে, আর অ্যামোনিয়া দেখা দিলে খুব দ্রুত কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে

» প্রতি লিটার পানিতে ০.৩ গ্রাম ফ্লকের ঘনত্ব থাকতে হবে।

Leave a Reply