বারো মাসি আম চাষ

বারো মাসি আম চাষ

 

আম আমাদের কাছে মৌসুমি ফল হলেও এখন “কাঠিমন” আম চাষের ফলে এটি বারো মাসই পাওয়া সম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষামূলক চাষের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় “কাঠিমন” আমের। অনেক আগেই চাষ শুরু হলেও সাফল্য পেতে বেশ কিছু বছর সময় গুণতে হয়েছিল কৃষকদের। কিন্তু সফলতা আসার সাথে সাথে খুব দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে এই আমের জাতটি। স্বাদে অনন্য হওয়ায় অন্যান্য আমের চেয়ে একটু বেশি দামেই বিক্রি হয় “কাঠিমন” আম।

 

“কাঠিমন” আমের স্বাদ

বারো মাসি আম হওয়া সত্ত্বেও এই আমের স্বাদের সাথে তুলনা করার মত কোন জাতের আম আমাদের দেশে নেই। “কাঠিমন” আমের মিষ্টতা বা টিটিএস(TTS) ২৭, যেখানে ল্যাংড়া আম ১৯, হিমসাগর ২১ এবং আমরুপালী ২৩-২৪। এই আমে আশের পরিমাণও খুব কম।

 

“কাঠিমন” আমের ফলন

বারোমাসি আম হলেও এই আমের মৌসুম প্রতি বছর ৩টি। এক মৌসুমের আম গাছ থেকে নামানোর কিছু দিনের মধ্যেই আবার মুকুল আসতে শুরু করে। প্রতি মৌসুমে একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গাছে ১৫-২৫ কেজি আম ধরে। প্রতি কেজিতে ৪-৫টি আম থাকে।

 

“কাঠিমন” আমের চাষাবাদ

“কাঠিমন” আম চাষের জন্য প্রয়োজন উঁচু জমি। যেই জমি বন্যা কবলিত এলাকায় হলে চলবে না। এই জাতের আম খুব ভাল ভাবেই চাষ করা যায় বাড়ির আঙিনায়, পুকুর পাড়ে, ছাদে টবে/ড্রামে, বাণিজ্যিক ভাবে, লাল মাটিতে এবং পাহাড়েও। দো-আঁশ, এঁটেল দোআঁশ মাটি “কাঠিমন” গাছের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। জৈব সার ব্যাবহারের ফলে আমের ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

 

“কাঠিমন” আম চাষে লাভ

“কাঠিমন” আম প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অন্যান্য আমের মৌসুম গুলোতে এই আমের দাম একটু কম থাকলেও বছরের অন্য সময়গুলোতে বেশ ভালো দামেই বিক্রি করা হয় এই আম। অমৌসুমে আম পাওয়ায় মানুষের কাছে এই আমের চাহিদাও আছে প্রচুর। প্রতি এক বিঘায় এই আম চাষ করে প্রতি মৌসুমে ৩-৩.৫ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। “কাঠিমন” আমের চারার দাম ১৫০-২৫০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। চারা বিক্রির মাধ্যমেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব।

Leave a Reply