ফুটবলের ইতিহাস

ফুটবলের ইতিহাস

জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে মানুষের কাছে ফুটবলের স্থান প্রথমেই। ফুটবল নামটি ১৯শ শতাব্দিতে এসে মানুষের কাছে পরিচিতি পেলেও এটির রয়েছে এক বড় ইতিহাস।

 

ফুটবলের পূর্ব ইতিহাস

একটি বল নিয়ে খেলার উদাহারন ৩০০০ বছর পূর্বের পুরনো মেসোমেরিকান সংস্কৃতিতে পাওয়া যায়। তারা বলটিকে সূর্যের প্রতীক বলে মনে করত এবং হেরে যাওয়া দলের অধিনায়ককে দেবতারদের সামনে বলি দিত।

খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় এবং দ্বিতীয় শতাব্দীতে চীনে লাথি মেরে বল খেলা পরিচিতি লাভ করে “কুজু” নামে। একটি বর্গাকার অঞ্চলে গোলাকার একটি বল দিয়ে “কুজু” খেলা হতো। পরে এই খেলাটি “কেমেরি” নামে জাপানে ছড়িয়ে পড়ে। “কেমেরি” খেলাটি ৩ জন মিলে খেলতো এবং এই খেলাটিতে নিয়ম ছিল বল মাটিতে স্পর্শ করতে পারবে না।

পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে বিভিন্ন বল নিয়ে খেলার শুরু হয়। একটি বল দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নিয়মে মানুষ খেলতে শুরু করে।

 

ফুটবলের বিকাশ

সর্বাধিক সূত্রমতে জানা যায় যে ফুটবল বিকাশিত হতে শুরু করে দ্বাদশ শতাব্দী থেকে ইংল্যান্ডে। তখন মানুষ ফুটবলের মত কিছু খেলা রাস্তায় এবং খোলা জায়গায় খেলতে শুরু করে। এই খেলা গুলো পা এবং হাতের সাহায্যে খেলা হতো। ফুটবলের সেই রূপটি আধুনিক পদ্ধতির চেয়েও রুক্ষ এবং হিংস্র ছিল। তখন ফুটবলের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল যে এটিতে প্রচুর পরিমাণে মানুষ একসাথে খেলত শহরের বৃহৎ অঞ্চলে। অধিক পরিমাণে মানুষ জড়িত থাকার কারণে শহরের বিভিন্ন ক্ষয়-ক্ষতি হতো, কখনো কখনো মৃত্যুরও কারণ এই খেলাটি। যার ফলে এই খেলাটিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে খেলাটি বন্ধ থাকে। তবে ১৭শ শতাব্দীতে লন্ডনের রাস্তায় আবারও খেলাটি ফিরে আসে। বিভিন্ন দিক বিচার করে ১৮৩৫ সালে খেলাটি আবারও নিষিদ্ধ করা হয়। তবে তত দিনে খেলাটি সরকারি বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।

আজকের আধুনিক ফুটবলের বৈশিষ্ট্য গুলি প্রকাশ পেতে দীর্ঘ সময় নিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল এবং রাগবির মধ্যে স্পষ্ট কোন পার্থক্য ছিল না। বলের আকার, খেলোয়াড়ের সংখ্যা এবং ম্যাচের দৈর্ঘ্য সম্পর্কে ছিলনা কোন নিয়ম কানুন। প্রায়শই রাগবি এবং ইটন নামের দুটি বিদ্যালয়ের মধ্যে এই খেলাটি দেখা যেত। ১৮৪৮ সালে ফুটবলের যথাযথ নিয়ম তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল কেমব্রিজের একটি সভায়, তবে এই নিয়মে চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া যায়নি খেলাটির সকল সমস্যার। পরে ১৮৬৩ সালে লন্ডনে গঠন করা হয় প্রথম ফুটবল সমিতি। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বল হাতে নিয়ে না খেলার। তারা বলের আকার এবং ওজন নিয়েও নতুন নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে। ১৯শ শতাব্দীতে মানুষ ফুটবলকে পছন্দ করতে শুরু করে এবং একটি ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য অনেক মানুষ মাঠে উপস্থিত হতে শুরু করে। খুব শীগ্রই এই খেলাটি বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

 

ফুটবল ক্লাব

১৫শ শতাব্দী থেকেই ফুটবল ক্লাব গঠন করা শুরু হয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্লাব গুলোর কোন নাম ছিলনা। কিছু ইতিহাসবিদের মতে প্রথম ফুটবল ক্লাব ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইডেনবার্গে গঠন করা হয়। আস্তে আস্তে আরও বিভিন্ন ক্লাব গঠন হতে থাকে। শিল্পায়ন বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের কাছে ফুটবল আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রথমে ফুটবল শুধু বিদ্যালয়ে খেলা হলেও ক্রমান্বয়ে এটি শ্রমিকরা বেশি খেলতে শুরু করে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় যখন ক্লাব গুলো ভালো খেলোয়াড়দের তাদের ক্লাবে যোগ দিতে টাকা দিতে শুরু করে। কারণ খেলাটি এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠে যে মানুষ খেলা দেখার জন্য টিকিট কিনতে শুরু করে। ১৮৮৫ সালে পেশাদারী ফুটবলকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর কিছুদিন পরে ফুটবল লীগ গঠন করা হয়। যার প্রথম মৌসুমেই ১২টি ক্লাব অংশ গ্রহন করে। শুরুতে এই খেলাটিতে শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের বিভিন্ন দল অংশ গ্রহন করলেও আস্তে আস্তে অন্যান্য দেশের দল গুলোও অংশ গ্রহন করা শুরু করে।

১৮৭১ সালে “ফুটবল এসোসিয়েশন কাপ” গঠন করা হয়। ১৮৭২ সালে প্রথম দুইটি দেশের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই ম্যাচটি ইংল্যান্ড স্কটল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, ম্যাচটির ফলাফল ছিল 0-0। তখন ম্যাচটি দেখার জন্য চার হাজার মানুষ মাঠে উপস্থিত ছিল। ১৮৮৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং ওয়ালেস অংশগ্রহন করে। ১৯০৪ সালে “ফিফা” স্থাপন করা হয়। ১৯০৮ সালে ওলেম্পিকএ ফুটবলকে যুক্ত করা হয়। প্রথমে মহিলাদের ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ থাকলেও ১৯৯৬ সালে তারাও খেলার অনুমতি পায়।

Leave a Reply